দু’দিনব্যাপি ‘রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা-ভাবনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৫ আগস্ট,২০১৬

উত্তরা ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা-ভাবনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের নতুন দেশ দিয়েছেন, আর এ নতুন দেশের অভ্যুদয়ের চেতনা আমরা পেয়েছি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনে প্রবলভাবে উপস্থিত। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর দেশকে ভুল পথে হাটােেনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়েছে। আমরা এর শিকার হচ্ছি সাম্প্রতিক সময়ে। উল্টো পথে হাটার কারণে আজ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলা পরিচালিত হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা থেকে বিচ্যুৎ হওয়ার কারণেই এগুলো হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির এ যুগে ইন্টারনেট থেকে সবাই তথ্য সংগ্রহ করেছেন-জ্ঞান নয়। এর কারণে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর ফলেই গুলশানের মতো ঘটনা ঘটেছে। আমাদের শিক্ষায় মানবিকতা-ভ্রাতৃত্ব-নান্দনিকতার অভাব তৈরি হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক বোধের জায়গায় তৈরি করা না হলে দানব তৈরি হবে বলে আসাদুজ্জামান নূর তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে দু’দিন ব্যাপি ‘রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা-ভাবনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরা ইউনিভার্সিটি (বাংলাদেশ), রবীন্দ্র চর্চাকেন্দ্র, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (ভারত) ও বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ)-এর যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি তার বক্তব্যে পূর্ব বাংলায় (বাংলাদেশে) শিক্ষার প্রসারে রবীন্দ্রনাথের অবদান তুলে ধরেন।
ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. বরুণকুমার চক্রবর্তী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পিকিং ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়ান স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. চাং শিঙ বলেন, রবীন্দ্র দর্শণ নতুন শতাব্দীর দিক নির্দেশনা দিচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রসারে রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ড. চাং শিং জানান, পিকিং ইউনিভার্সিটিতে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক একটি কোর্স রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ করা বাধ্যতামলূক।
টোকিও ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মসাহিকো টোগাওয়া জাপানের রবীন্দ্র চর্চার পাশাপাশি কথা বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকা- সম্পর্কে। তিনি জানান, জাপান সরকার-সহ অনেকেই তাকে বাংলাদেশে এ সময়ে আসতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি এসেছেন এবং দেখেছেন তার বা অন্যান্য বিদেশীদের নিরাপত্তাজনিত কোন সমস্যা হচ্ছে না। তিনি বলেন, জাপান ফিরে তিনি তা সবাইকে বলবেন এবং প্রত্যাশা করেন, জাপান ও অন্যান্য দেশের নাগরিকরা আবার বাংলাদেশকে নিরাপদ ভেবেই আসতে শুরু করবেন।
সভাপতির বক্তব্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষিত জাতি গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করে ড. ইয়াসমীন আরা লেখা বলেন, প্রকৃত শিক্ষার মধ্যদিয়েই সম্ভব উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বপ্নবাদী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর শিক্ষাস্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শান্তিনিকেতন।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন ও কবি আহমদ রফিককে রবীন্দ্র চর্চায় অবদান রাখার জন্য সম্মানিত করা হয়।
উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় কী-নোট সেশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ড. বিশ্বজিৎ ঘোষের সভাপতিত্বে এ অধিবেশনে আলোচনা করেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যাসাগর অধ্যাপক হিমবন্ত বন্দ্যেপাধ্যায়, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বেলা দাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী।
এছাড়াও সম্মেলন আয়োজক তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জাপান, চায়না, ভারতসহ দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, প্রথিতযশা রবীন্দ্র গবেষকগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। [Click Here to Part 2]



Upload Date: 08 Aug 2016